রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:৪০ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
Logo দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়নকে অগ্রসর করতে ইন্দোনশিয়া সফরে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী Logo ১৯২৪ কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ফা’ইউয়ান মন্দির পরিদর্শন করেন Logo শুরু হয়েছে বেইজিং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব Logo চীনা প্রধানমন্ত্রীর সাথে বেইজিংয়ের মহাগণভবনে জার্মান চ্যান্সেলরের বৈঠক Logo চীন সফর করলেন জার্মানির চ্যান্সেলর ওলাফ শোলজ Logo চতুর্থ চীন আন্তর্জাতিক ভোগ্যপণ্য মেলা চলবে ১৮ এপ্রিল Logo ২১৫ টি দেশ ক্যান্টন মেলা কুয়াং চৌতে নিবন্ধন করেছেন Logo রামগঞ্জে নানান আয়োজনে পহেলা বৈশাখ পালিত Logo সেপটিক ট্যাংকে নেমে প্রাণ গেল বাড়ির মালিকসহ পরিচ্ছন্নতাকর্মীর Logo শোক সংবাদ: বীর মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত আলী পাইনের ইন্তেকাল
নোটিশঃ
যে কোন বিভাগে প্রতি জেলা, থানা/উপজেলা এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ‘bdpressnews.com ’ জাতীয় পত্রিকায় সাংবাদিক নিয়োগ ২০২৩ চলছে। বিগত ১ বছর ধরে ‘bdpressnews.com’ অনলাইন সংস্করণ পাঠক সমাজে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। পাঠকের সংখ্যায় প্রতিনিয়ত যোগ হচ্ছে নানা শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে প্রতিষ্ঠানটিতে কাজ করছে তরুণ, অভিজ্ঞ ও আন্তরিক সংবাদকর্মীরা। এরই ধারাবাহিকতায় ‘bdpressnews.com‘ পত্রিকায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার এ ধাপ

মানহীন সিলিন্ডারে বাড়ছে দুর্ঘটনা-প্রাণহানি

Reporter Name / ১১৯ Time View
Update : বুধবার, ২২ মার্চ, ২০২৩, ১:৩৬ অপরাহ্ন

নাজমুল লিখন:
কোনোরকম রাখঢাক ছাড়াই মানহীন, নকল ও মেয়াদোত্তীর্ণ গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে দেদার। ঝুঁকিপূর্ণ এসব সিলিন্ডারের ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় গাড়ি এবং বাসাবাড়িতে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনাও বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞ ও খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ও পুলিশের তদারকির অভাব, বিস্ফোরক অধিদপ্তরের নানা সীমাবদ্ধতা আর ব্যবহারকারীদের অসচেতনার কারণে সিলিন্ডার গ্যাস একপ্রকার আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিবেশ দূষণ কমাতে ২০০০ সালে দেশে যানবাহনে গ্যাসের ব্যবহার এবং রান্নার কাজে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ব্যবহার শুরু হয় ২০০৫ সালের দিকে। জ্বালানি তেলের চেয়ে খরচ কম হওয়ায় গ্যাসচালিত পরিবহনের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি
প্রাকৃতিক গ্যাস সংকটের কারণে বাসাবাড়ি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে এলপিজির ব্যবহারও বাড়ছে প্রতিনিয়ত। কিন্তু যানবাহনে ব্যবহৃত সিলিন্ডারের প্রায় ৮০ শতাংশই পুনঃপরীক্ষা ছাড়াই চলছে বছরের পর বছর ধরে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ দেশ রূপান্তরকে বলেন, গ্যাস সিলিন্ডার বিধিমালা অনুযায়ী প্রতি ৫ বছর অন্তর সিলিন্ডার পরীক্ষা করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু দেশে এ নিয়ম মানা হয় না। অধিকাংশ সিলিন্ডার নিয়মিত পরীক্ষা করা হয় না। আবার পরীক্ষা করা হলেও তা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। একটা সিলিন্ডারও পরীক্ষায় ফেল করে না। এটা বড়ই অদ্ভুত ব্যাপার।
তিনি বলেন, যানবাহনে ব্যবহৃত সিলিন্ডারে গ্যাসের চাপ ৩৫০০ পিএসআই থাকে। অর্থাৎ প্রতি ইঞ্চিতে সাড়ে তিন হাজার পাউন্ড ওজনের সমান চাপ। এটা যদি বিস্ফোরণ হয় তাহলে সেটা ভয়াবহ হবেই।
তার মতে, বিআরটিএ যদি সিলিন্ডারের পরীক্ষণ সনদ দেখে সিএনজিচালিত যানবাহনের ফিটনেস সার্টিফিকেট দেয় আর পুলিশ যদি নিয়মিত গাড়ির ফিটনেস পরীক্ষা করে তাহলে এসব দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে। সেই সঙ্গে সিএনজি ফিলিং স্টেশনের মালিকদের যানবাহনের ফিটনেস সনদ ছাড়া গ্যাস বিক্রি না করার যে বিধান রয়েছে সেটিও মানা দরকার।
গাড়িতে থাকা সিলিন্ডারের মেয়াদ এবং কার্যক্ষমতা আছে কি না তা নিশ্চিত হতে ২০১৬ সালের ২৮ জুন একটি সার্কুলার জারি করেছিল বিআরটিএ। এতে বলা, আরপিজিসিএল অনুমোদিত ‘সিএনজি সিলিন্ডার টেস্টিং’ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গ্যাস সিলিন্ডার পরীক্ষা করে তা ব্যবহারের উপযুক্ত কি না বা মেয়াদ পেরিয়ে গেছে কি না সে বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে ফিটনেস সার্টিফিকেট দেওয়া আবশ্যক। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিআরটিএর কর্মকর্তারা তা মানেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে সিলিন্ডার পরীক্ষার ভুয়া সনদ দিয়েও যানবাহনের ফিটনেস সার্টিফিকেট নিচ্ছে বলে রয়েছে অভিযোগ।
বিআরটিএর ওয়েবসাইটে যানবাহনের ফিটনেস সার্টিফিকেট নিতে ছয় প্রকারের কাগজপত্র দেওয়ার কথা উল্লেখ থাকলেও সিলিন্ডার পরীক্ষার কোনো সনদ জমা দেওয়ার কথা বলা নেই সেখানে।
এ ব্যাপারে জানতে বিআরটিএর চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদারসহ একাধিক কর্মকর্তাকে কয়েক দফা ফোন দিয়েও তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফারহান নূর দেশ রূপান্তরকে বলেন, বাজারে নকল ও মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডারের সংখ্যা অন্তত দুই লাখ। এসব সিলিন্ডারের কারণেই দুর্ঘটনা বাড়ছে। সর্বশেষ মঙ্গলবার রাজধানীর মুগদায় গ্যাস নেওয়ার সময় ট্রাকে যে বিস্ফোরণ হয়েছে, সেখানে দেখা গেছে চারটি সিলিন্ডারের মধ্যে দুটি সিলিন্ডারই নকল। মূলত ওই নকল সিলিন্ডারই বিস্ফোরণ হয়েছে। এভাবে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে হতাহতের পাশাপাশি এ খাতের ব্যাবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঠিক তদারকি থাকলে এসব দুর্ঘটনা অনেক কমবে।
তিনি বলেন, ‘যানবাহনে গ্যাস দেওয়ার সময় ফিটনেস সার্টিফিকেট দেখার ক্ষমতা আমাদের নেই। অন্যদিকে ঝুঁকি নিয়ে কাভার্ড ভ্যানে গ্যাস সিলিন্ডার বহন করা হলেও দেখার কেউ নেই। এ ধরনের একটা কাভার্ড ভ্যানে বিস্ফোরণ হয়ে গাজীপুরে পাঁচজনের মৃত্যুর পর আমরা এভাবে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রেখেছিলাম। তখন একজন ব্যবসায়ী নেতার প্রবল চাপে আবার গ্যাস বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছি।’
গত বছর অন্তত ৯৪টি সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে। পাশাপাশি গ্যাস লাইন ও সিলিন্ডারের কারণে বাসাবাড়িতে ৭৬৭টি অগ্নিকা- ঘটেছে। এ ছাড়া অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে একাধিক।
গত ৭ মার্চ নাটোরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দুই সন্তানসহ এক নারীর মৃত্যু হয়। এর কিছুদিনের মাথায় ময়মনসিংহে দুর্ঘটনাকবলিত মাইক্রোবাসের গ্যাস সিলিন্ডার ছিদ্র হয়ে ভয়াবহ অগ্নিকা-ে চার ব্যক্তি নিহত হন। ৪ মার্চ চট্টগ্রামের সীতাকু-ে অক্সিজেন কারখানায় সিলিন্ডারে অক্সিজেন ভরতে গিয়ে বিস্ফোরণ হয়। এতে সাতজনের মৃত্যু হয়।
অনেক সময় গ্যাস বেলুন বিক্রেতারা মানহীন সিলিন্ডার থেকে হাইড্রোজেন ভরতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। ২০১৮ সালের ১৫ মার্চ খুলনার লবণচরার বাগমারা এলাকায় এমন দুর্ঘটনায় গ্যাস উৎপাদনকারী মারা যান। ২০১৯ সালের ৩০ অক্টোবর; একজন বেলুন বিক্রেতা এলপিজি সিলিন্ডার থেকে বেলুনে গ্যাস ভরার সময় বিস্ফোরণে সাত শিশু নিহত হয়।
রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে সিএনজিচালিত ৫ লাখ ৭ হাজার ৫৬৭টি যানবাহন রয়েছে। তবে বাস্তবে এ সংখ্যা সাত লাখের মতো হবে বলে ধারণা করছেন এ খাতের ব্যবসায়ীরা। এ ছাড়া কয়েক হাজার হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন গ্যাসের সিলিন্ডার রয়েছে। অন্যদিকে দেশে প্রায় সাড়ে তিন কোটি এলপিজি সিলিন্ডার রয়েছে। বাসাবাড়ির পাশাপাশি পরিবহন ও ক্ষুদ্র শিল্পের জ¦ালানি হিসেবে এ গ্যাস ব্যবহার হচ্ছে। বাসাবাড়ির গ্যাস সিলিন্ডার তদারকির দায়িত্ব বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন ও বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের।
অনেকেই কোনো অনুমোদন ছাড়াই ঝুঁকি নিয়ে সিলিন্ডারে গ্যাস ভরে তা বিক্রি করছে। আবার প্রকাশ্যে পুরনো সিলিন্ডার বিক্রি করছেন কেউ। পাশাপাশি অননুমোদিত কারখানায় তেলচালিত গাড়ি থেকে সিএনজিতে রূপান্তর করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে রাজধানীর বাসাবো, নন্দীপাড়া এলাকায় ব্যাটারির বদলে অনেক অটোরিকশা চলছে সিএনজিতে। অনুমোদন না থাকলেও এসব যান ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চলাচল করছে বলে খবর পাওয়া গেছে। মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডারে রঙ করে ব্যবহার করা হচ্ছে এসব যানবাহনে।
রাজধানীর গাবতলী মাজার রোড এলাকায় প্রধান সড়কের পাশেই জিএম মটরস নামে একটি দোকানে পুরাতন সিলিন্ডার কেনাবেচা হচ্ছে। ক্রেতা সেজে প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ হুমায়ুন আহামেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় গতকাল রাতে। তিনি জানান, আপাতত তার কাছে পুরাতন সিলিন্ডার নেই। তবে দুয়েক দিনের মধ্যে পাওয়া যাবে। মেয়াদ আছে এমন পুরাতন সিলিন্ডার ক্রয়-বিক্রয় করা হয়। এ সিলিন্ডার কেনার পর কেউ যদি তার গাড়িটি সিএনজিতে রূপান্তর করতে যান, সে ক্ষেত্রে আলাদা মিস্ত্রি আছে। তারা এ কাজ করেন। হুমায়ুনের মতো অনেকেই অবৈধভাবে পুরনো গ্যাস সিলিন্ডার কেনাবেচা করছেন।
সূত্র: দৈনিক দেশ রূপান্তর।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Design & Developed by : BD IT HOST